| বঙ্গাব্দ

পাচারকৃত ২৮ লাখ কোটি টাকা ফেরতের ঘোষণা জামায়াত আমিরের | ২০২৬ নির্বাচন

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 29-01-2026 ইং
  • 1405089 বার পঠিত
পাচারকৃত ২৮ লাখ কোটি টাকা ফেরতের ঘোষণা জামায়াত আমিরের | ২০২৬ নির্বাচন
ছবির ক্যাপশন: জামায়াত আমির

পাচার হওয়া ২৮ লাখ কোটি টাকা ফেরত আনবে জামায়াত: কারওয়ান বাজারে ডা. শফিকুর রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক : বিডিএস বুলবুল আহমেদ

আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজপথ। এরই ধারাবাহিকতায় বিগত সরকারের সময়ে দেশ থেকে পাচার হওয়া বিপুল পরিমাণ অর্থ ফিরিয়ে আনার ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি দাবি করেছেন, গত সাড়ে ১৫ বছরে বাংলাদেশ থেকে ২৮ লক্ষ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করা হয়েছে এবং জামায়াত ক্ষমতায় গেলে সেই টাকা জনগণের কল্যাণে ফিরিয়ে আনা হবে।

"পেটের ভেতর হাত ঢুকিয়ে টাকা বের করে আনা হবে"

বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি, ২০২৬) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে ঢাকা-১২ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী সাইফুল ইসলাম মিলনের নির্বাচনি পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান এসব কথা বলেন। তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, "এই টাকা জনগণের রক্তঘামানো অর্থ। আমরা চেষ্টা করবো পেটের ভেতরে হাত ঢুকিয়ে ওই টাকা বের করে আনতে। ইনশাআল্লাহ, এই টাকা জনগণের উন্নয়ন খাতেই ব্যয় হবে।"

জামায়াত আমির আরও বলেন, আগামী ১৩ ফেব্রুয়ারি থেকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক চিত্র পাল্টে যাবে। বিশেষ করে চাঁদাবাজদের হুঁশিয়ার করে তিনি বলেন, "সেদিন থেকে ৯০ ভাগ চাঁদাবাজের হাত অবশ হয়ে যাবে। চাঁদাবাজি বন্ধে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি জামায়াতের কর্মীরাও রাজপথে অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে থাকবে।"

তারেক রহমানের বক্তব্যের পাল্টা জবাব

সম্প্রতি এক জনসভায় বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান ২০০১-২০০৬ সালের চারদলীয় ঐক্যজোট সরকারের প্রসঙ্গ টেনে জামায়াত মন্ত্রীদের সমালোচনা করেছিলেন। তারেক রহমান প্রশ্ন তুলেছিলেন যে, বিএনপি যদি দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়, তবে জামায়াতের দুই মন্ত্রী কেন পদত্যাগ করেননি।

এর জবাবে কারওয়ান বাজারের সমাবেশে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, "আমরা সে সময় মন্ত্রণালয় ছেড়ে যাইনি এ কারণে যে, অন্তত তিনটা মন্ত্রণালয় যেন বেঁচে যায়। দুর্নীতিবাজদের হাত থেকে মন্ত্রণালয়গুলোকে রক্ষা করতেই আমাদের মন্ত্রীরা দায়িত্ব পালন করেছেন এবং তারা কোনো ধরনের দুর্নীতির সাথে জড়িত ছিলেন না।" তিনি আরও যোগ করেন, গত ৫৪ বছরে অধিকাংশ সময় দেশ চালানো হয়েছে জুলুমের দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে, যা নতুন বাংলাদেশে চরিত্র ও দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের মাধ্যমে সংস্কার করা হবে।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: ১৯০০ থেকে ২০২৬

বাংলাদেশের রাজনীতির গতিপথ পর্যালোচনায় দেখা যায়:

  • ১৯০০-১৯৪৭: ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন ও দেশভাগের সময় থেকেই এই অঞ্চলে নৈতিকতা ও ধর্মভিত্তিক রাজনীতির একটি ধারা প্রবাহমান ছিল।

  • ১৯৭১-২০২৪: স্বাধীনতার পর ৫৪ বছরের ইতিহাসে নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে ২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার বিপ্লব এক নতুন বাংলাদেশের ভিত্তি স্থাপন করে।

  • ২০২৫-২০২৬: ২০২৫ সাল ছিল সংস্কার ও পুনর্গঠনের বছর। ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এখন দলগুলোর মধ্যে চলছে আদর্শিক লড়াই। বিশেষ করে অর্থপাচার ও দুর্নীতি নির্মূলই এবারের নির্বাচনে প্রধান ইস্যু হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।

কারওয়ান বাজারের এই পথসভায় ঢাকা-১২ আসনের প্রার্থী সাইফুল ইসলাম মিলনসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন। বক্তারা ভোটারদের প্রতি আসন্ন নির্বাচনে ন্যায়বিচার ও ইনসাফ কায়েমের লক্ষ্যে জামায়াতকে জয়যুক্ত করার আহ্বান জানান।


বিশ্লেষণ: রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৬ সালের নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী দুর্নীতি ও অর্থপাচারকে তাদের প্রধান নির্বাচনি হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। বিশেষ করে বিএনপির সাথে সাম্প্রতিক বাদানুবাদ এবং অতীতের চারদলীয় জোটের কর্মকাণ্ড নিয়ে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য নির্বাচনি মাঠে নতুন মেরুকরণ তৈরি করেছে। পাচারকৃত ২৮ লক্ষ কোটি টাকা ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি সাধারণ ভোটারদের মনে কতটা রেখাপাত করে, তা দেখার জন্য সবাইকে ১২ ফেব্রুয়ারির ব্যালট বিপ্লব পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

সূত্র: * নিজস্ব প্রতিবেদক ও মাঠ পর্যায়ের প্রতিবেদন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency